Posts

Showing posts with the label #IncridibleIndia

চিতোরের পথে...

Image
  "Sunshine on my shoulders make me happy"  জন ডেনভার এর এই বিখ্যাত গান বোধহয় সব ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিই একবার না একবার ঠিক গুনগুনিয়ে ওঠে।আমার ঘুড়ে বেড়ানোর নেশা সেই ছোটবেলা থেকেই । প্রথম জীবনে বাবার সামর্থ্য অনুযায়ী "দীপুদা" তেই মজে ছিলাম কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে গন্তব্যও পরিবর্তিত হতে শুরু করলো। আর তখনই আমার ভালবাসার গন্তব্যের একদম উচুতে স্থান পেলো ভারতীয় রাজপুত্রদের দেশ রাজপুতানা বা রাজস্থান। আজ আমি বলবো চিতোরগড়ের গল্প। কথায় আছে ‘গড় তো ব্যাস চিতোরগড়, বাকি সব গড়াইয়া’। নতুন শহরের এক প্রান্তে একটি সুদীর্ঘ পাহাড়ের মাথায় গড় ১৫০ মিটার উচ্চতায় অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীর ঘেরা ঐতিহাসিক চিতোরের কেল্লা। কেল্লা তো নয়, যেন একটা শহর। পুরোটা ঘুরতে নাকি ১৩কিমি পথ অতিক্রম করতে হয়।গাম্ভিরি নদী পার হয়ে কেল্লার  পাদদেশ। খাড়াই রাস্তা শুরু। প্রথমে  পড়ে একটা সুপ্রাচীন ফটক, ‘পাদল পোল’। এরপর বাঁক খাওয়া খাড়াই রাস্তা বেয়ে আরো পাঁচটি গেট পেরিয়ে সপ্তম গেট ‘রামপোল'। এগুলি সবই কেল্লার পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার। উপর থেকে একদিকে কেল্লার ভিতর ‘রাণা রতন সিংহের প্রাস...

The Story Of The Vivekananda Rock Memorial

Image
বিবেকানন্দ রক, শব্দটা শুনলেই আপামর ভারতবাসীর মনে কন্যাকুমারীর শেষপ্রান্তে যে স্মৃতিসৌধটির কথা ভেসে আসে তার সাথে আমরা সকলেই প্রায় অল্পবিস্তর পরিচিত। ভারতবাসীর অত্যন্ত গর্বের এই সৌধটির নির্মান ইতিহাসটা কিন্তু অনেকেরই অজানা। আসুন আমরা আজ আমাদের অতি প্রিয় এক ভ্রমনস্থলের ইতিহাসটা নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে দেখি। গল্পের শুরুতেই আপনাকে কিন্তু পিছিয়ে যেতে হবে ১৯৬২ সালের একদম শুরুতে, সারা ভারতজুড়ে তখন স্বামীজীর জন্মশতবর্ষ পালন উপলক্ষে সাজো সাজো রব। সমগ্র রামকৃষ্ণ মিশন আর তার সহোযোগী সংস্থাগুলি সারা ভারত জুড়ে মহা সমারোহে স্বামীজীর মহান কর্মকান্ডের প্রচার করে চলেছে। সেই সময়ে কন্যাকুমারীর কিছু বিশিষ্ট মানুষজন স্বামীজী যে পাথরটির উপর বশে ধ্যান করতেন সেই পাথরটির উপর স্বামীজীর একটি স্মৃতিসৌধ স্থাপনের আর্জি নিয়ে তৎকালীন 'Haindeva Seva Sangh' এর প্রেসিডেন্ট শ্রী Velayudhan Pillai এর সাথে দেখা করেন , এবং তার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়।কাকতলীয়ভাবে রামকৃষ্ণ মিশনের আয়োজিত মাদ্রাজের একটি পাবলিক মিটিংয়েও প্রায় অনুরুপ এক প্রস্তাব গ্রহন করা হয়। কিন্তু বিধি বাম। আগুনের গতিতে এই প্রস্তাবের খব...

পদ্মস্মভব মহাবিহার মনাস্ট্রি (Jirang Monastery)

Image
আপনারা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘোরেন বহু পরিচিত বৌদ্ধ মনাস্ট্রি দেখবার জন্য। কিন্তু আমাদের পাশের রাজ্য ওড়িশাতে একটি  সল্পপরিচিত কিন্তু অসাধারন সুন্দর মনাস্ট্রি আছে যার খোজ আমরা আনেকেই রাখি না। আজকের গল্প সেরকমই একটি মনাস্ট্রি নিয়ে  যার জনপ্রিয় নাম জিরাং মনাস্ট্রি। ২০১০ সালে তিব্বতি ধর্মগুরু দলাই লামার হাতে পশ্চিম এশিয়ার এই সর্ববৃহৎ মনাস্ট্রিটির উদ্বোধন হয়। ১৯৫৯ সালে চীনের  আগ্রাসনে  ব্যতিব্যাস্ত হয়ে প্রায় ৮৫০০০ তিব্বতি শরনার্থী নিয়ে ১৪তম ধর্মগুরু দলাই  লামা ভারতের শরনাপন্ন হন। তখন  বেহরামপুর  শহর থেকে ৮০ কিমি দূরে চন্দ্রগিরিতে ছয়টি ক্যাম্প করে তিব্বতীয় রিফিউজিদের থাকার বন্দোবস্ত করা হয়।  তিব্বতীয়রা স্থানটিকে Phuntsokling নামেও অভিহিত করে থাকেন। তিব্বতী ভাষায় যার অর্থ ' Land of Happiness and  Plenty ' । ২০০৮ সালে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যায়ে এই মনাস্ট্রিটি তৈরি করা হয়। কিভাবে যাবেন :- ট্রেনে সব থেকে কাছের স্টেশন বেহেরামপুর। সেখান থেকে জিরাং প্রায় ১১০ কিমি। সময় লাগে ৪ ঘন্টা। গাড়ি ভাড়া ২০০০-২৫০০  টাকা। কি কি দেখবেন :- ব...

ছোটনাগপুরের রানী...আমি কি তোমায় চিনি

Image
"ঝরনা, তোমার স্ফটিক জলের স্বচ্ছ ধারা-- তাহারি মাঝারে দেখে আপনারে সূর্য তারা।" যেকোনো ভ্রমনে ঝরনার দেখা না পেলে বোধহয় আমাদের মতো ভ্রমনপিপাসু মানুষদের কাছে ভ্রমনটা কোথায় যেনো একটু অসম্পুর্ণ থেকে যায়। আর যদি ঝরনাটা একটু অপরিচিত হয় তাহলে তো সোনায় সোহাগা। তাই বাড়ি থেকে ৫৫০ কিমি দূরে ঝাড়খন্ডের এক জংগলে ভারতের ২১তম সর্বোচ্চ জলপ্রপাতটার খবর পেয়েই মনটা বেশ একটু উড়ু উড়ু হয়ে পড়ল। আর ' পায়ের তলার সর্ষে একবার যদি সুড়সুড় করে ওঠে তো আমাকে রোখা শিবেরও অসাধ্য। তাই দেরি না করেই দুতিনদিনের ছুটি ম্যানেজ করে ' রইলো ঝোলা চললো ভোলা ' স্টাইলে গোছগাছ করে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বেড়িয়ে পরলাম লোধ ফলসে র উদ্দেশ্যে। অনাবশ্যক রাস্তার বর্ণনা দিয়ে পাঠকের মাথাব্যথা না বাড়িয়ে সোজা পৌছে গেলাম রাঁচি। সেখান থেকে লোহারডাগা হয়ে গুমলাগামী রাস্তা ধরে ৫০ - ৬০ কিমি এগুলেই শুরু হয় পাহাড়ি আঁকাবাঁকা জঙ্গলের রাস্তা। রাঁচি থেকে নেতারহাটের দূরত্ব প্রায় ১৫০ কিমি। তাই অপটু হাতে প্রকৃতিদেবীকে নিজের ক্যামেরায় বন্দী করার ব্যার্থ চেষ্টা করতে করতে যখন নেতারহাট পৌছলাম তখন ঘড়ির কাঁটা প্রায় ১১ ছু...