Posts

Showing posts with the label #HistoryPlace

Badami - the temple town

Image
উত্তর কর্ণাটকের বাগালকোট জেলার বাদামী,Pattadakal,আর আইহোল -এই ট্রায়োটি চালুক্য সাম্রাজ্যের অপরূপ শিল্পকর্মের এক অসামান্য নিদর্শন।ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতক পর্যন্ত দক্ষিণ ও মধ্য ভারতের অনেকখানি জুড়ে চালুক্য সাম্রাজ্যের আধিপত্য বিস্তার করেছিল।আইহোলের মন্দির গুলি চালুক্য সাম্রাজ্যের প্রথম দিকের কীর্তি।আইহোলের মত পাটটাডাকালও ( PATTADAKAL) একইরকম চালুক্য্ রাজাদের সৃষ্টি তবে আরও নিখুঁত। বিশেষত পাথর কেটে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি তৈরিতে তাদের নৈপুণ্য লক্ষ্য করা যায়।বাতাপি বা বাদামী কিন্তু অন্য ধরনের। মোট চারটি গুহায় শিল্পী দের অসামান্য দক্ষতায় গড়া গুহাচিত্র গুলি শুধু নির্বাক হয়ে দেখে যেতে হয়।ষষ্ঠ শতকে জয়সিংহ আইহোলে চালুক্য রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করলেও তাঁর পুত্র প্রথম পুলকেশী এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা এবং তিনি বাতাপি অর্থাৎ, বর্তমান বাদামিতে তাঁর রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। পাট্টাডকাল তাঁদের দ্বিতীয় রাজধানী।             বাদামি অতীতের নাম ছিল বাতাপি। এই বাতাপি নামকরণের পিছনে একটি সুন্দর পৌরাণিক গল্প আছে।রামায়ণের অরণ্যকাণ্ডের বর্ণনা অনুসারে এখানে  ইল্বল ও বাতাপ...

চিতোরের পথে...

Image
  "Sunshine on my shoulders make me happy"  জন ডেনভার এর এই বিখ্যাত গান বোধহয় সব ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিই একবার না একবার ঠিক গুনগুনিয়ে ওঠে।আমার ঘুড়ে বেড়ানোর নেশা সেই ছোটবেলা থেকেই । প্রথম জীবনে বাবার সামর্থ্য অনুযায়ী "দীপুদা" তেই মজে ছিলাম কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে গন্তব্যও পরিবর্তিত হতে শুরু করলো। আর তখনই আমার ভালবাসার গন্তব্যের একদম উচুতে স্থান পেলো ভারতীয় রাজপুত্রদের দেশ রাজপুতানা বা রাজস্থান। আজ আমি বলবো চিতোরগড়ের গল্প। কথায় আছে ‘গড় তো ব্যাস চিতোরগড়, বাকি সব গড়াইয়া’। নতুন শহরের এক প্রান্তে একটি সুদীর্ঘ পাহাড়ের মাথায় গড় ১৫০ মিটার উচ্চতায় অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীর ঘেরা ঐতিহাসিক চিতোরের কেল্লা। কেল্লা তো নয়, যেন একটা শহর। পুরোটা ঘুরতে নাকি ১৩কিমি পথ অতিক্রম করতে হয়।গাম্ভিরি নদী পার হয়ে কেল্লার  পাদদেশ। খাড়াই রাস্তা শুরু। প্রথমে  পড়ে একটা সুপ্রাচীন ফটক, ‘পাদল পোল’। এরপর বাঁক খাওয়া খাড়াই রাস্তা বেয়ে আরো পাঁচটি গেট পেরিয়ে সপ্তম গেট ‘রামপোল'। এগুলি সবই কেল্লার পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বার। উপর থেকে একদিকে কেল্লার ভিতর ‘রাণা রতন সিংহের প্রাস...

সাঁচির অভ্যন্তরে

"বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি,   ধর্মং শরণং গচ্ছামি" দৃশ্য -১ চারপাশের লাশের স্তূপ থেকে এক আহত সৈনিক বের হয়ে এসেছেন। সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত এই সৈনিক জ্ঞান হারিয়ে চাপা পড়েছিলেন লাশের স্তূপের নিচে।  প্রচণ্ড তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে।কিন্তু ভয় কি,  সামনেই বহমান দায়া নদী। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি নদীর দিকে । এক আঁজলা জল না পেলে এই যাত্রা আর বাঁচা হলো না বোধহয় তার! নদীর কাছাকাছি চলে আসার পর উঠে বসলেন সৈনিক। যেই না জল স্পর্শ করতে যাবেন, তখনই ভয়ে শিউরে উঠলেন তিনি। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন, “জল  কোথায়?” বিশাল দায়া নদীর পানি শুকিয়ে যায়নি। তা কল্পনায়ও অসম্ভব! তাহলে কী দেখে ভয় পেয়েছিলেন সেই সৈনিক? নদীর পানি ঠিকই বয়ে চলছিল আপন খেয়ালে। কিন্তু সেদিন দায়া নদীর জলের রঙ ছিল টকটকে লাল! হ্যাঁ,  উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম  রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত যুদ্ধ সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধের এক কাল্পনিক দৃশ্য দিয়েই আজকের গল্প শুরু করি। সেই যুদ্ধের ভয়াবহ দিন যত গড়াতে লাগে যুদ্ধের ময়দান ক্রমেই লাশের পর লাশের স্তূপ গড়ে ওঠে। কলিঙ্গের আকাশে তখন শুধু শকুনের আনাগোনা। ...

মান্ডুর প্রেম কথা

Image
জাহাজ মহল ইতিহাস কোনোদিনই আমার খুব প্রিয় সাবজেক্ট নয়। তাই ভ্রমনস্থল নির্বাচনে ইতিহাসের ছোঁয়াছুঁয়ি আমি একটু বাঁচিয়ে চলি। কিন্তু কিছু ট্রাভেল ব্লগ ঘাটতে ঘাটতে বিন্ধ্যপর্বতমালার শিখরে ঐতিহাসিক দুর্গনগরী মান্ডুর গল্পটাতে হঠাৎ করেই চোখটা আটকে গেলো৷রানি রূপমতী ও মালোয়ার রাজা বাজ বাহাদুরের প্রেমকাহিনি মিশে আছে মান্ডু-র আকাশে বাতাসে। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের অতি প্রিয় ছিল এই মান্ডু, বিশেষ করে বর্ষাকালে। মুসলমান ঐতিহাসিক গুলাম ইয়াজদানি যাকে অভিহিত করেছিলেন 'শারাংপুর' বা 'আনন্দের শহর' বলে।জাহাঙ্গির যার নাম দিয়েছিলেন  সাদিয়াবাদ, অর্থাত্‍ সিটি অফ জয়।পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা মধ্যপ্রদেশের ধর জেলার দুর্গ শহর মান্ডু। দুর্গ হলেও এর প্রতিটা পাথরে আজও শোনা যায় রুপমতির নুপুরের শব্দ, বিন্ধের হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় তার গান, যা একসময় রাজপুতদের শেষ স্বাধীন রাজা বাজবাহাদুরকে মুগ্ধ করেছিল। ঐতিহাসিকদের মত অনুযায়ী মান্ডু দুর্গ দশম শতাব্দীর গোড়ার দিকে নির্মিত হয়েছিল৷ নির্মাণকালে এর নাম ছিল মণ্ডপ দুর্গ৷ মণ্ডপ থেকে হয় মাণ্ডব৷ আজকের গল্পের পটভুমি এই মান্ডব। ইতিহাসে উকিঁঝুঁকি ঃ- দশম শতাব্দীতে র...

বৃষ্টিস্নাত খাজুরাহো।

Image
গল্প বলার আগে একটু ট্রেলার না দেখালে গল্পটা ঠিক জমে না। তাই প্রথমেই একটু ট্রেলার হোক।   বৃষ্টি রাতে গানের মাটি ভেসে, চাঁদ চলেছে অনেক দূর দেশে, থমকে থাকা ধোঁয়াটে এস্রাজে জমাট বাধা পুরনো সুর বাজে! চোখ জোড়ানো স্বপ্ন মেলে ডানা, অনেক কথা জেনেও হয়না জানা! সময় শুধু মোমের মত পোড়ে , ভাবনাগুলো মেঘের সাথে ওড়ে! একেক বৃষ্টির আমেজ একেক রকম। কেউ কেউ আছেন ঝুম বৃষ্টিতে খোলা ময়দানে ভিজতে ভালোবাসেন, কেউ বা ঘরের কোণে, কেউ ছাদে আবার কেউ কেউ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন দিকচক্রবালের পথে। অঝোর ধারায় বৃষ্টি কেনো জানিনা আমাকে সাপুড়িয়া বাঁশীর মত ডাকতে থাকে। তাই এবারের rain drive এর সাম্ভাব্য গন্তব্য নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হঠাৎ একটা ভ্রমন সংখ্যায় বৃষ্টিস্নাত খাজুরাহের সুর্যমন্দিরের ছবিটা চোখে পরল। সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে ফেললাম এবারের বৃষ্টিটা অতীতের ওঁম গায়ে মাখতে মাখতে উপভোগ করবো।  আগষ্ট মাসে আমার জীবিকাজনিত কারনে মেঘের পেছনে ছোটাছুটি করার জন্য বেশি ছুটি ম্যানেজ করাটা বেশ চাপের। হাতে পেলাম মাত্র দুটো রাত আর তিনটি দিন। তাই আমাদের ভ্রম...