সাঁচির অভ্যন্তরে


"বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি,   ধর্মং শরণং গচ্ছামি"


দৃশ্য -১
চারপাশের লাশের স্তূপ থেকে এক আহত সৈনিক বের হয়ে এসেছেন। সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত এই সৈনিক জ্ঞান হারিয়ে চাপা পড়েছিলেন লাশের স্তূপের নিচে।  প্রচণ্ড তৃষ্ণায় বুক ফেটে যাচ্ছে।কিন্তু ভয় কি,  সামনেই বহমান দায়া নদী। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি নদীর দিকে । এক আঁজলা জল না পেলে এই যাত্রা আর বাঁচা হলো না বোধহয় তার!
নদীর কাছাকাছি চলে আসার পর উঠে বসলেন সৈনিক। যেই না জল স্পর্শ করতে যাবেন, তখনই ভয়ে শিউরে উঠলেন তিনি। অস্ফুট স্বরে বলে উঠলেন, “জল  কোথায়?”
বিশাল দায়া নদীর পানি শুকিয়ে যায়নি। তা কল্পনায়ও অসম্ভব! তাহলে কী দেখে ভয় পেয়েছিলেন সেই সৈনিক? নদীর পানি ঠিকই বয়ে চলছিল আপন খেয়ালে। কিন্তু সেদিন দায়া নদীর জলের রঙ ছিল টকটকে লাল!
হ্যাঁ,  উপমহাদেশের ইতিহাসে অন্যতম  রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত যুদ্ধ সম্রাট অশোকের কলিঙ্গ যুদ্ধের এক কাল্পনিক দৃশ্য দিয়েই আজকের গল্প শুরু করি।
সেই যুদ্ধের ভয়াবহ দিন যত গড়াতে লাগে যুদ্ধের ময়দান ক্রমেই লাশের পর লাশের স্তূপ গড়ে ওঠে। কলিঙ্গের আকাশে তখন শুধু শকুনের আনাগোনা। যুদ্ধের রক্তপাতের তীব্রতা এতোই ছিল যে, কলিঙ্গের দায়া নদী সৈনিকদের বুকের রক্তে টকটকে লাল হয়ে গিয়েছিল।নদীর স্রোত সেই রক্ত নিয়ে পুরো ভারত জুড়ে বয়ে চললো, ছড়িয়ে দিলো কলিঙ্গের হাহাকার! কলিঙ্গের প্রতিটি সৈনিক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত যুদ্ধ করে গেলেন। প্রায় এক বছরব্যাপী চলা যুদ্ধে আনুমানিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার কলিঙ্গ সেনা প্রাণ হারান। অপরদিকে প্রায় ১ লক্ষ মৌর্য সৈনিক প্রাণ হারান। কথিত আছে, যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে কলিঙ্গে শ্রম খাটানোর জন্য কোনো জীবিত দাস খুঁজে পাওয়া যায়নি।একসময় মনে হচ্ছিল যুদ্ধের ফলাফল কলিঙ্গদের পক্ষে যাবে, কিন্তু অপরাজেয় অশোক শেষপর্যন্ত বিজয়ী হলেন।
দৃশ্য -২
যুদ্ধ শেষ,কলিঙ্গ যুদ্ধের বিজয়ী সম্রাট অশোক কলিঙ্গের ময়দানে বীরদর্পে পদচারণা করছেন,  চারিদিকে মানুষের আহাজারি, কান্না আর আর্তনাদে তার মন ব্যথিত, ভারাক্রান্ত। সম্রাট অশোক এই বিজয় চাননি। তিনি কলিঙ্গ চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিণামে পেলেন এক মৃত্যুপুরী, যার কারিগর তিনি নিজে।ময়দানের যুদ্ধ হয়তো শেষ , কিন্তু অশোকের মানসিক যুদ্ধ তো শেষ হচ্ছে না। হঠাৎ এক কলিঙ্গ বৃদ্ধা অশোকের দরবারে হাজির হন। কলিঙ্গে যুদ্ধে বৃদ্ধার স্বামী, পিতা এবং সন্তান প্রাণ হারান। তিনি কাঁদতে কাঁদতে সম্রাটকে প্রশ্ন করেন, “আপনার কারণে আমি সব হারিয়েছি। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচবো?”
বৃদ্ধার এই প্রশ্ন সম্রাটকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলে। তার পক্ষে এই গ্লানি সহ্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়েন শক্তিধর সম্রাট। কলিঙ্গযুদ্ধের  এই ভয়াবহ পরিণতি তাঁকে   সম্পূর্ণ রূপান্তরিত করল অন্য সত্তায়; সত্ত্ব, রজ ও তম এই তিন গুণের মধ্যে তিনি শুধুমাত্র বেছে নিলেন সত্ত্বগুণকে । শরণ নিলেন গৌতমবুদ্ধের, আশ্রয় নিলেন ধর্মের ।খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৭তে, সম্রাট অশোকের "চন্ডাশোক" থেকে "ধর্মাশোকে" উত্তরণ ঘটল ।
সম্রাট অশোকের স্ত্রী দেবী ছিলেন বিদিশার মেয়ে। দেবীর বাবা ছিলেন বিদিশা নগরের একজন বিশিষ্ট বণিক।অশোক আর দেবীর বিয়েও হয়েছিল এই সাঁচীতেই।সাঁচির পাহাড়টি তখন বিদিশাগিরি নামে পরিচিত ছিল। তৃতীয় খ্রিস্টপূর্ব থেকে দ্বাদশ শতক খ্রিস্টপূর্বের মধ্যে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে এই শহরটি উৎকর্ষের তুঙ্গে আরোহণ করে। সম্রাট অশোক বিদিশাগিরি অর্থাৎ সাঁচিতে স্তূপ, স্তম্ভ ও মঠ স্থাপন করেন।  স্তুপ গড়ার জন্য সাঁচীর নানারকম গুণাবলী ছিল। স্তুপ সাধারণত বানানো হত উঁচু কোনও নির্জন পাহাড়ের ওপর। বেতোয়া নদীর সমতল উপত্যকায় জঙ্গলের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল সাঁচী পাহাড়, নির্জনতায় তাকে টেক্কা দেওয়া শক্ত।অশোকের কন্যা সঙ্ঘমিত্রা ও পুত্র মহেন্দ্র শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধধর্ম প্রচারে যাওয়ার আগে সাঁচিতে মা দেবীর সাথে দেখা করতে আসেন। দেবী তাঁদের বৌদ্ধমঠে নিয়ে যান। প্রকান্ড এলাকা জুড়ে এই মঠ। তাতে অনেক ঘর, উপাসনাগৃহ প্রভৃতি ছিল। মঠের পাশে থাকতো এক বিশাল পাথরের পাত্র। এতে সমস্ত দানসামগ্রী জমা হত। পরে সেগুলি বিতরণ করা হত।
সাধারণত বুদ্ধ বা বৌদ্ধধর্মের কোনও গুরুর দেহাবশেষের ওপর গড়া হত স্তুপ। সব স্তুপের নিচেই যে ভস্ম থাকবে তেমন কোনও কথা নেই, তবে সাঁচীর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্তুপে থাকাই সম্ভব। গল্পে বলে বুদ্ধদেবের মহানির্বাণের পর তাঁর দেহভস্ম নিয়ে আট রাজার মধ্যে মারামারি বেধেছিল। শেষে ভস্ম আট ভাগ হল, একেকজন একেকভাগ নিয়ে নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে গেলেন। তারই একভাগ হাত ঘুরে সম্রাট অশোকের হাতে এসে পড়েছিল আর সেই দেহাবশেষের ওপরই তৈরি হয়েছিল সাঁচীস্তুপ।মনেকরা হয় এখানে এক নম্বর স্তূপের মধ্যে বুদ্ধদেবের ভস্ম আছে। তিন নম্বর স্তূপে ছিল বুদ্ধের শিষ্য সারীপুত্র ও মহামোজ্ঞলানার ভস্ম।
অবশ্য অশোক যে স্তুপটি বানিয়েছিলেন তার সঙ্গে আজকের এই এত বড় জায়গাজোড়া, এত মন্দির, মনাস্টেরি, স্তম্ভ, মূর্তিওয়ালা সাঁচীস্তুপের কোনও মিল নেই। এমনকি সাঁচীস্তুপ বলতেই যে তিন থাকবিশিষ্ট দরজার কথা আমাদের মনে পড়ে সেও অশোক বানিয়ে যাননি। অশোক বানিয়ে গিয়েছিলেন শুধু একটা ইঁটের অর্ধগোলক স্তুপ, স্তুপ ঘিরে সাপের মতো পেঁচিয়ে ওঠা দুটি সিঁড়ি, স্তুপের মাথায় যষ্টি, যষ্টির মাথায় ছাতা। এ ছাড়া আর একটি মঠও বানিয়েছিলেন সম্রাট, আর পুঁতেছিলেন একটি অশোকস্তম্ভ।
এই অশোকস্তম্ভ নিয়ে আমাদের একটা ভুল ধারনা আছে। আমরা অশোকস্তম্ভ মানেই ভাবি যে একটা লম্বা খাম্বার ওপর চারচারটে সিংহ পিঠে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, তাদের পায়ের নিচের গোল পাথরের বেড় ঘিরে থাকবে একটি ঘোড়া, একটি হাতি, একটি ষাঁড় ও একটি সিংহ। আর তাদের মাঝখানে চব্বিশটি দণ্ডওয়ালা একটি চক্র তা নয় কিন্তু।যেমন সাঁচীস্তুপের অশোকস্তম্ভের মাথায় চারটে সিংহ ছিল বটে কিন্তু চক্রটক্র ছিল না। অশোকের আমলের অশোকস্তম্ভগুলো সব চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ ফুট লম্বা হত আর ওজনে প্রায় পঞ্চাশ টন ভারী। সেগুলো বানানো হত মথুরা কিংবা চুনারের স্যান্ডস্টোন দিয়ে।এবং প্রতিটি অশোকস্তম্ভের গায়ে  অশোকের লেখা নির্দেশাবলী ব্রাহ্মী হরফে খোদাই থাকবে।
সাঁচীস্তুপের সবথেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে ওই পুঁচকে পাহাড়ের মাথায় প্রায় পনেরোশো বছরের ইতিহাস যেন জড়ামড়ি করে আছে। অশোকের পর মৌর্য সাম্রাজ্যের সঙ্গে সঙ্গে সাঁচীস্তুপেরও দশা বেশ কাহিল হয়ে পড়েছিল। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে শুঙ্গ রাজারা এসে সেই ভাঙাচোরা স্তুপকে শুশ্রূষা করে সারিয়ে তুললেন। শুধু সারিয়ে তুললেনই না, তার সৌন্দর্যবৃদ্ধিও করলেন বেশ খানিকটা। ইঁটের স্তুপ পাথরে মুড়ে দিলেন, স্তপের চারদিকে আর স্তুপের মাথার যষ্টির চারদিকে বাহারের পাঁচিল তুলে দিলেন।
সাঁচী স্তুপের সিগনেচার তিন থাক তোরণ যখন বানানো হল তখন অশোকের পর প্রায় দুশো বছর কেটে গেছে। অমরাবতীর সিংহাসনে তখন সাতবাহন রাজারা। পাথরের তোরণ খুদে জাতক বুদ্ধের গল্পের ছবি আঁকলেন বিদিশার শিল্পীরা।
সাঁচীতে আবার বড় ধরণের কাজ হয়েছিল চতুর্থ শতাব্দীতে গুপ্তসম্রাটদের আমলে। বেশ কয়েকটি মন্দির, প্রার্থনাগৃহ বানানো হয়েছিল। এই আমলের একটা অশোকস্তম্ভও আছে সাঁচীতে।
সাঁচীতে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধস্থাপত্যের শেষ চিহ্ন পাওয়া গেছে বারোশো শতাব্দী নাগাদ। তার পর তেরোশো চোদ্দোশো শতাব্দী নাগাদ হাওয়া যে ঘুরতে শুরু করেছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় সে সময়ের কতগুলো ছোটখাটো মূর্তি থেকে। গজলক্ষ্মী, গজপতি, ললিতাসনে আসীন মহাদেব। এই মূর্তি আসে মথুরা থেকে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে বৌদ্ধ ধর্মের বিবর্তনের যোগাযোগ থাকতে পারে। বুদ্ধের মৃত্যুর কিছু পর থেকেই তার প্রবর্তিত ধর্ম নিয়ে তর্ক শুরু হয়। কৌসাম্বির দলটি পুরানো ও রক্ষণশীল ছিল। অন্যদিকে মথুরার কেন্দ্রটি অপেক্ষাকৃত নতুন। নতুন দলটি এমন কিছু পরিবর্তন আনে যা বুদ্ধদেব নিজেও বাতিল করেছিলেন। বুদ্ধদেব কখনও চাননি তার শিষ্যরা তাঁকে ঈশ্বরের মত পূজো করুক। অথচ একশো খ্রীস্টাব্দের মধ্যেই মথুরাকেন্দ্রিক দলটির সদস্যেরা বুদ্ধের পাথরের খোদাই মূর্তি গড়ে পূজো শুরু করে।সেই পাল্টা হাওয়ার ঘূর্ণিতে পড়েই বৌদ্ধসন্ন্যাসীদের সাঁচী ছাড়তে হল নাকি তাঁরা স্বেচ্ছায় স্তুপ ছেড়ে চলে গেলেন সে কথা প্রমাণ করার আর কোনও উপায় নেই। তবে এ কথা নিশ্চিত চোদ্দোশো শতাব্দীর পর থেকে সাঁচীস্তুপ নিষ্প্রাণ পড়েছিল যতদিন না আবার আঠেরোশো আঠেরো সালে জঙ্গল কেটে মাটি খুঁড়ে জেনারেল টেলর তাকে উদ্ধার করলেন।
এক নম্বর স্তূপের উত্তরমুখী তোরণ এখনও সবচেয়ে অক্ষত। দুটি চৌক স্তম্ভের উপর তিনটি পাথরের লম্বা লম্বা ফলক। সেই পাথরের ওপর সূক্ষাতিসূক্ষ কাজ। এমন সূক্ষ যে তা এলোরা বা খাজুরাহোর কাজকেও টেক্কা দেবে। এই সব তোরণে যারা কাজ করেছেন তারা সকলেই ছিলেন কাঠ বা হাতির দাঁতের শিল্পী। সে কারণেই তোরণে কাঠ বা হাতির দাঁতের কাজের সুক্ষতা পাওয়া যায়। এছাড়াও স্বর্ণকারেরাও এখানে কাজ করেছেন। এই স্তূপের উত্তরমূখী তোরণের মাথায় এখনও চক্রের কিছু অংশ দেখা যায়। 
জাতকের কাহিনী ঃ-
সাঁচির প্রতিটি কারুকার্যমন্ডিত তোরণের ওপর ধর্মচক্র ও তার নীচে জীবজন্তু,বুদ্ধের জীবনের ঘটনাবলী,জাতকের কাহিনী,এমনকি সমকালীন ঐতিহাসিক তথ্যগুলি ভাস্কর্যে বর্ণিত হয়েছে৷পশ্চিম তোরণের উপরিভাগে আছে মানবরূপী বুদ্ধের সাত জন্মের কাহিনী৷ মাঝে সারনাথে উপদেশরত বুদ্ধ,নিচে হসত্মিসহ ছন্দক জাতকের চিত্র৷ দক্ষিণ তোরণে বুদ্ধের জন্মকাহিনী৷ সিদ্ধার্থমাতা মায়াদেবী পদ্মের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন,তাঁর ডানদিকে যূথপতি বারি সিঞ্চনরত৷ নিচে কীচকের বামন মূর্তির হাতে মালা৷ পূর্বতোরণে গর্ভাবস্থায় মায়াদেবীর স্বপ্নদর্শন,শাক্যমুনির জলের ওপর ভ্রমণ ও কপিলাবস্তু থেকে গৃহত্যাগ৷এখানে একটি তোরণে আছে আম্রবৃক্ষের নিচে উপদেশদানের পর শ্রীবুদ্ধ হেঁটে চলেছেন লেলিহান শিখার মাঝখান দিয়ে শূন্যপথে৷ 
সাঁচীর খননের ইতিহাস ঃ-
১৮১৮ সালে ব্রিটিশ জেনারেল টেলার সাঁচির ধ্বংসস্তূপ আবিষ্কার করে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যদিও এতে অপকারই বেশি হয়। গুপ্তধনের আশায় পুরাকীর্তির উপর অত্যাচার চলে।
১৮২২ সালে ক্যাপটেন জনসন ভেতরে কি আছে দেখতে এক নম্বর স্তূপটি উপর থেকে নিচ পর্যন্ত কেটে ফেলে। স্তূপের গায়ে প্রকান্ড ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং পশ্চিমের তোরণ ভেঙ্গে পড়ে। দু নম্বর স্তূপও ধ্বংস হয়।
১৮৫১ সালে আবার দুই ও তিন নম্বর স্তূপ খোঁড়া হয়। এক নম্বর স্তূপের মধ্যে লোহার রড পাঠানো হয় কিছু পাওয়ার আশায়।
সাহেবদের সাথে স্থানীয় মানুষও হাত মেলায়। এক জমিদার অশোক স্তম্ভটি তিন টুকরো করে কেটে আখ মাড়াই করতে বাড়ি নিয়ে যান।
১৮৮১ সালের আগে সাঁচি সংরক্ষণের চেষ্টা হয় নি। সে বছর মেজর কোল এ কাজ়ে হাত দেন। পরে তিন বছর তিনি ও আরো পরে ভারতের আর্কিওলজিকাল সার্ভের ডিরেক্টর এ কাজে এগিয়ে আসেন।
মেজর কোল বিদিশাগিরির জঙ্গল কেটে গোটা পাহাড় পরিষ্কার করান। এক নম্বর স্তূপের ফাটল মেরামত করেন। পশ্চিম ও দক্ষিণদিকের তোরণগুলি তুলে যথাস্থানে স্থাপন করেন।
বাকি কাজ করেন স্যার জন মার্শাল। ১৯১২ থেকে ১৯১৯ সালের মধ্যে তাঁর কাজেই আজকে সাঁচি দেখা সম্ভব হয়। 
সাঁচি বর্তমানে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।ভারতবর্ষের ৩৬ টি ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইটের মধ্যে মধ্যপ্রদেশের ৩টি কেন্দ্র।
এগুলো হলো খাজুরাহ, ভিমবেটকা ও সাঁচি। সব থেকে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো , ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইটের আখ্যা পেয়েছে সাঁচির স্তূপটি নয়, বরং অসাধারণ শিল্পকলায় পরিপূর্ণ চারটি গেট। বর্তমানে নতুন প্রকাশিত আমাদের ২০০ টাকার নোটে, এই সাঁচি স্তুপের ছবি এই কেন্দ্রটিকে আরো প্রাসঙ্গিক করে দিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের রাজধানী শহর ভূপাল থেকে সাঁচির দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার।

Comments

Popular posts from this blog

Keonjhar – A hidden Gem of Orissa

ঘাটশিলার ডায়েরী ( The story of Ghatshila )

মান্ডুর প্রেম কথা